Uncategorized

আট দফা দাবিতে জীবননগর হাসপাতালে নার্সদের মানববন্ধন ও ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা

  Admin1234@ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৫৭:৪৫ 76

 

আবুল হাশেম দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা চুয়াডাঙ্গা।

স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন বিলুপ্ত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ এবং আশ্বাস প্রদান সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৪ মাসেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্স ও মিডওয়াইফরা আট দফা দাবিতে হাসপাতাল গেটের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) এবং বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) জীবননগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

নার্সদের প্রধান ক্ষোভের কারণ হলো, প্রায় ৪৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী ও স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে অন্য কোনো অধিদপ্তরে একীভূত করার অপচেষ্টা।

এ অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাতে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

মানববন্ধনে সিনিয়র স্টাফ নার্স রানু খাতুন, সেলিনা খাতুন, রুপালি খাতুন, সুরাইয়া খাতুন, এবং মিডওয়াইফ ববিতা খাতুন, শান্তনি খাতুন সহ অন্যান্য নার্স ও মিডওয়াইফরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নার্স নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত মেনে না নেওয়া হলে তারা ধারাবাহিক ও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন।

আন্দোলনকারী নার্স ও মিডওয়াইফদের আটটি মূল দাবির মধ্যে রয়েছে:

স্বতন্ত্র অধিদপ্তর রক্ষা: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে ভিন্ন অধিদপ্তরে একীভূত করার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

কাঠামো ও নিয়োগবিধি: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত নতুন নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ এবং ক্যারিয়ার প্যাথ অবিলম্বে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

পদোন্নতি: নার্সদের পরবর্তী উচ্চতর পদগুলোতে (৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষভাবে পদ প্রমার্জনের মাধ্যমে পদোন্নতিসহ সুপারনিউমারারি পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রেড উন্নীতকরণ: নার্সিং সুপারভাইজার এবং নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদগুলো দ্রুত ৯ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।

সনদের মান: ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাশ) সমমান দিতে হবে এবং সকল গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু করতে হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা: বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নিয়োগ-বিধি ও মানসম্মত বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধনবিহীন ভুয়া নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সুবিধা ও ইউনিফর্ম: নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য ঝুঁকিভাতা প্রদান করতে হবে এবং বিগত সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে হবে।

নতুন পদসৃজন: শয্যা, রোগী এবং চিকিৎসক অনুপাতে নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃজন ও দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে।

দাবি বাস্তবায়িত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে আন্দোলনকারী নার্সরা জানান, ইতোমধ্যে তারা বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করেছেন এবং সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন আসতে চলেছে। তাদের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো:

২৫ নভেম্বর সকল স্বাস্থ্যসেবা এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ ধারণ।

২৬ নভেম্বর কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট।

২৭ নভেম্বর দুই ঘণ্টাব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের সামনের রাজপথে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল (আজকের কর্মসূচি)।

৩০ নভেম্বর কালো ব্যাজ ধারণ করে দুই ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী শাট-ডাউন।

২ ডিসেম্বর থেকে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের সকল স্বাস্থ্যসেবা এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপ্লিট শাট ডাউন পালন।

নার্স নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায়, ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচির কারণে সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও খবর:

Sponsered content