আইন-আদালত

ক্ষমতা প্রদর্শন নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ? সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ‘অপহরণ’ করে ক্ষোভের মুখে এসআই দেলোয়ার!

  Admin1234@ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ , ১:৪৮:৪০ 117

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ওয়ারেন্ট দেখাতে পারেননি, তবুও বাইক জব্দ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি সাংবাদিককে না পেয়ে এবং কোনো বৈধ ওয়ারেন্ট দেখাতে ব্যর্থ হয়ে তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি প্রকাশ্য এলাকা থেকে আটক (জব্দ) করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিমুল পারভেজ। এই ঘটনা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে জেলা জুড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত: হুমকি ও ভুল বোঝাবুঝি
সাংবাদিক শিমুল পারভেজের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে একটি তুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই দেলোয়ার তার বাড়িতে যান এবং তাকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে শিমুল পারভেজ ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই দেলোয়ার স্বীকার করেন যে, তিনি বাদী পক্ষের কথায় ভুল ধারণা পেয়েছিলেন এবং সরাসরি শিমুলের বক্তব্য শোনেননি। সমাধানের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক শিমুল ও তার ভাই এসআই দেলোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কেবল শিমুলকে একা থানায় যেতে বলেন। যৌথভাবে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এসআই দেলোয়ার এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেননি।

ক্ষমতার অপব্যবহার: বিনা ওয়ারেন্টে বাইক আটক! সাংবাদিক সমাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ! গতকাল, ১৬ নভেম্বর, শিবগঞ্জ পৌরসভা মার্কেট এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক শিমুল সাথে পারভেজের সহকর্মী আমিনুল ইসলাম। তিনি শিমুল পারভেজের মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছিলেন। সেই সময় এসআই দেলোয়ার ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেলটি আটক করেন। এনিয়ে আটকের কারণ জানতে চাইলে এসআই দেলোয়ার কোনো বৈধ নথি বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দাবি করেন, শিমুলের নামে ওয়ারেন্ট আছে কিনা-?। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো ওয়ারেন্ট বা মামলার কপি দেখাতে পারেননি।

আইন অনুযায়ী,মোটরসাইকেল বা কোনো সম্পত্তি জব্দের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ আদালতের ওয়ারেন্ট বা মামলার নথি থাকা আবশ্যক। এসআই দেলোয়ারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পুলিশি ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন-? এই ঘটনার প্রতিকার বা কারণ জানতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিমুল পারভেজ তাৎক্ষণিকভাবে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ গোলাম কিবরিয়াকে বারবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এতে অভিযোগ উঠেছে, এসআই দেলোয়ারের এমন গুরুতর বেআইনি পদক্ষেপের বিষয়ে কি ওসি অবগত? কিংবা কেন তিনি একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকলেন-? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

সাম্প্রতিককালে :এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত মোটরসাইকেল/সরঞ্জাম ফেরত, এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে দাবি সাংবাদিক সমাজ করেছে,তা সম্পূর্ণরূপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার প্রশ্ন। পুলিশ ও সাংবাদিকের সম্পর্কটা হওয়া উচিত পারস্পরিক বিশ্বাস,সহযোগিতা এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার। উভয়ই সমাজের সেবক একজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করে, অন্যজন তথ্য সরবরাহ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু কিছু অসাধু ও ক্ষমতা অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তার কারণে আজ এই সম্পর্ক বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”বিশেষ করে, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা, হুমকি, এবং শারীরিক হেনস্তার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, কিছু কর্মকর্তার কাছে সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়েছে।”

গণমাধ্যম কর্মীকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড়—এই সমালোচনার মূল কারণ হলো জনগণের পুলিশের প্রতি আস্থা হারানো। যখন দেখা যায়, যারা আইনের রক্ষক, তারাই আইন ভঙ্গ করে সাংবাদিকের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে ওঠে।এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কেবল অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, বরং পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান ও আচরণগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ (গণমাধ্যম) দুর্বল হবে, এবং পুলিশের প্রতি জন-আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

আরও খবর:

Sponsered content