সর্বশেষ

বিচারপূর্ব শাস্তির ফাঁদ: সংবাদমাধ্যম কি মানবিক মর্যাদা হারাচ্ছে: নাকি আইনশৃঙ্খলার বাজিমাত?

  Admin1234@ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:০১:৩৯ 85

এস এম রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-

আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সামাজিক হেনস্তা গোপনীয়তা ও গণমাধ্যমের ভারসাম্যতা কোথায়-? সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো নারী পুরুষের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, তা এক গভীর নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তুলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ‘অভিযুক্ত’ নারী পুরুষকে বিচারের আগেই সমাজে ‘দোষী’ হিসেবে চিহ্নিত করার এই প্রবণতা কি আসলে আইনের শাসনের পরিপন্থী নয়-?

মানবিক মর্যাদা এবং পেশাদারিত্বের দৃষ্টিকোণ আইনের চোখে ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তি সমাজের চোখে ‘অপরাধী’ কতটুকু-? বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জীবন সুরক্ষার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু মাদক মামলায় গ্রেপ্তার নারীদের ক্ষেত্রে এই অধিকার প্রায়শই লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়। আইন স্পষ্ট ‘দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শুধুই ‘অভিযুক্ত’। যদিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারার মতো মাদক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নারীদের ছবি বা পরিচয় প্রকাশে সরাসরি কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও মানবাধিকার এবং উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ কিন্তু গণমাধ্যম ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করে।

বিচারাধীন বিষয়ে এমনভাবে পরিচয় প্রকাশ করা উচিত নয়,যা অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে বা তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে,সমাজে তাদের হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বহু গুণ বেশি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নজরে রাখাটাই হবে টিকে থাকার লড়াই ‘নীতি ভঙ্গের দায়ভার কারা করছে-? এই বিচারপূর্ব শাস্তি’-? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়শই অভিযানের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পেশার দারিত্বের সীমারেখা লঙ্ঘন হচ্ছে কি না,তা মহ! গুরুতর বিবেচ্য। পেশাদারিত্বের অভাব’ছবি প্রকাশ করে অপরাধের গুরুত্ব না দেখে যদি কেবল ব্যক্তির পরিচয় (এবং লিঙ্গ পরিচয়) সামনে আনা হয়,তবে তা ‘বিচারপূর্ব শাস্তি’ (Pre-trial Punishment) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব’ একবার কোনো নারীর ছবি ভাইরাল হলে,তার পরিবার,সন্তান এবং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী এবং অপূরণীয়। সতর্কতা ও শিক্ষা’ কী করণীয়-? এই সংবেদন শীল’ বিষয়টিতে গণমাধ্যম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ সবারই করণীয় অবশ্যই আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান’ ভারসাম্য বজায় রাখা’ জনস্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অভিযুক্তের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা। পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা শুধুমাত্র অফি সিয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার তথ্য প্রদান করে গ্রেপ্তার’করার ছবি যেন ‘অপমান’করার মাধ্যমে পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহবান’বিবেচিত।

গণমাধ্যম ও ক্রাইম রিপোর্টারদের অভিজ্ঞতা প্রাকটিক্যাল চলমান চিএ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে
সংবাদ পরিবেশনায় সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা বজায় রাখা। যদিও ছবি প্রকাশ করতেই হয়, তবে অভিযুক্তের মুখ বা পরিচয় ঝাপসা (ব্লার) করে দেওয়ার আহবান থাকার আওতাধীনে আসা। শুধুমাত্র পাঠকের কৌতূহল মেটানো বা ‘ভাইরাল’ হওয়ার জন্য কোনো নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী।ভিকটিম ব্লেমিং পরিহার’ অপরাধের জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু কোনো নারীর প্রতি যেন ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা সামাজিকভাবে ঘৃণা ছড়ানো না হয়,তা নিশ্চিত করতে হবে আমার ও ‘আপনার।

সাধারণ জনগণের জন্য সতর্কতা অবলম্বন-? শেয়ার করা থেকে বিরত,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা,বিকৃত করা বা অশ্লীল মন্তব্য করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। আপনার অজান্তেই আপনি আইনি বিপদে পড়তে পারেন একটি ভূলের কারনেই! মানবিক মর্যাদাই হোক শেষ কথা! মাদক সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ব্যাধি। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন মানবিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন না হয়, সেদিকেই নজর দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যম—সবারই মনে রাখতে হবে,বিচারের আগে একজন অভিযুক্তের সম্মান রক্ষা করা সভ্য সমাজের প্রধানতম দায়িত্ব। “তথ্য জানার অধিকার সবার” (প্রতিবেদক এসএম রুবেল)

আরও খবর:

Sponsered content